ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে কলকাতার একটি তিনতলা হোটেলে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি অংশ ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় হোটেলে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়া সদরের আরুয়াপাড়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন দেবাশিস দত্ত (৩৭), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাঁদের দুই বছর বয়সী সন্তান শর্ণশিষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার দুই বছর বয়সী শিশু আহমেদ বাবুর পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত অপর শনাক্ত ব্যক্তি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ান। তবে নিহত আট বাংলাদেশির মধ্যে এখনো তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে দূতাবাস জানিয়েছে।
কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টা ৭ মিনিটের দিকে হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া হোটেলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত অতিথিরা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে দমকলের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও এতে যোগ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানে হোটেল থেকে অন্তত ৬০ জনকে জীবিত বের করে আনা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। আগুনের সূত্রপাত একটি এয়ার কন্ডিশনারের সম্ভাব্য বিস্ফোরণ থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কয়েকজন কর্মীকে খুঁজছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহত ও নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রথম দিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে নিহত ৯ জনকেই বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যের ভিত্তিতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা আটজন বলে নিশ্চিত করা হয়।
কলকাতায় চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা এবং ভবনের নিরাপত্তা মান যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না—সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
