হামাস নিরস্ত্র নয়, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নয়: নেতানিয়াহুর কঠোর বার্তা

For these families, reuniting with the world around them was a journey that started from the feet up

by admin
0 comments

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনারের মধ্যে বৈঠকটি ব্যর্থ হয়েছে। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

ইসরাইলি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার ইসরাইলে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। নেতানিয়াহু তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, ইসরাইলি সেনারা গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে না এবং প্রয়োজনে তারা সেখানে অভিযানও চালিয়ে যাবে।

এর এক দিন আগে রোববার মিসরে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার। ওই বৈঠকে হামাস দাবি করে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের আগেই গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

সোমবারের বৈঠকটি তেমনই একটি সময়ে হলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা রোডম্যাপ এক সপ্তাহ আগে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন নেতানিয়াহু।

কুশনারের সঙ্গেও নেতানিয়াহু তাঁর সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার বা সেখানে পুনর্গঠন শুরু করা যাবে না। তিনি হামাসের অস্ত্র হস্তান্তর তদারকির জন্য একজন মার্কিন জেনারেল নিয়োগের অনুরোধও জানান।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যে গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ ও সামরিকীকরণমুক্ত করার জন্য দুটি কর্মদল গঠনে সম্মতি হয়েছে। ইসরাইল ও বোর্ড অব পিস দ্রুত এই কাজ শেষ করতে চায় এবং গাজায় পুনর্গঠন শুরুর আগেই এটি সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তাও বৈঠকটিকে দীর্ঘ, বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে সামনে এগোনোর একটি পথ নিয়ে একমত হয়েছেন তারা। এখন হামাস সত্যিই চুক্তি মেনে চলতে চায় কি না, তা দেখানোর দায়িত্ব তাদের।

দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থান

হামাস জানিয়েছে, তারা ১৫ দফা রোডম্যাপে সম্মত, যেখানে তাদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও রয়েছে। তবে সংগঠনটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ও বোর্ড অব পিসকে ইসরাইলকে চুক্তিতে সম্মত করানোর আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্কের কর্মকর্তারাও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, ইসরাইলকে ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইসরাইল বলছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার আগে কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। এই দুই বিপরীত অবস্থানই দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থার মূল কারণ।

বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরাইলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আগে নেতানিয়াহু আরো বেশি এলাকা দখলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

রোববার কুশনার হামাসের রাজনৈতিক প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা ও হামাসের এক কর্মকর্তা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, সংগঠনটি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৪ দিনের আলোচনাপর্ব শুরু করার জন্য তারা মধ্যস্থতাকারীদের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণের কথা রয়েছে।

হামাসের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, হামাসের নেতা দাবি করেছেন, চুক্তি বাস্তবায়ন শুরুর আগে ইসরাইলকে গাজায় হামলা বন্ধ করতে হবে এবং তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। গাজাকে বিভক্ত করা এই রেখার সুনির্দিষ্ট অবস্থান কখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যে বাড়ছে মতপার্থক্য

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে নেতানিয়াহুর অনিচ্ছায় ট্রাম্প ক্রমেই হতাশ হচ্ছেন। চুক্তি অনুযায়ী নেতানিয়াহু তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন না বলেও ট্রাম্প মনে করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের চাওয়া বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের তালিকা থাকার কথা ছিল, যার মধ্যে ছিল গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধ, সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।

তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে গাজায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি মিলেছে বলে হারেৎসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এটি সোমবার ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইসরাইলের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়।

কুশনারের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য নিকোলাই ম্লাদেনভও ছিলেন।

বৈঠকটি নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হলো, কারণ চলতি বছরের শেষ দিকে ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। জনমত জরিপে নেতানিয়াহু চাপের মধ্যে রয়েছেন। গাজা যুদ্ধ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার আগে তাঁর ভূমিকা দেশটির রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।

আঞ্চলিক দেশগুলোর নিন্দা

ইসরাইলের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যানের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার দায় এখন ইসরাইলের। বিবৃতিতে বোর্ড অব পিস ও যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো পক্ষ যাতে বাধা দিতে না পারে, সে জন্য ‘অবিলম্বে ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ১০০-এর বেশি আহত হয়েছেন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00